হঠাৎ হাতে বা হাতের কবজিতে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। এ ব্যথা খুব সাধারণ ব্যথা হলেও কোনো কারণ ছাড়াই হয় এমন নয়। 

এ ধরনের ব্যথায় আমরা সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে থাকি। যেটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। 


তাছাড়া পেইন কিলার চিকিৎসক দিলেও সেটি খারাপ। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।


হঠাৎ ইনজুরির কারণে কবজিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। মচকে গেলে কিংবা হাড় ভেঙে কবজিতে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া বারবার কবজিতে চাপ, বাত ও কারপাল টানেল সিনড্রোমের কারণে ব্যথা হয়ে থাকে।


কবজি বা রিস্টজয়েন্ট হলো একটি জটিল সন্ধি, যা তৈরি হয়েছে কয়েকটি হাড়ের সমন্বয়ে যেমন রেডিয়াস ও আলনা হাড়ের নিম্নাংশ এবং আটটি ছোট ছোট কারপাল হাড়। এই কারপাল হাড়গুলো দুই সারিতে সাজানো।


লিগামেন্টের শক্ত ব্যান্ড কবজির হাড়গুলোকে একে অন্যের সঙ্গে রেডিয়াস ও আলনা হাড়ের নিম্নাংশ এবং হাতের হাড়গুলোকে সংযুক্ত করে। টেনডনগুলো হাড়ের সঙ্গে মাংসপেশিকে সংযুক্ত করে।


কবজির যে কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া হাত ও কবজির ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে পড়ে গেলে কবজিতে খুব বেশি ইনজুরি হতে পারে। ফলে কবজি মচকে যায়, কবজিতে টান পড়ে এবং কবজির হাড় ভেঙেও যায়। ফলে ব্যথা হতে পারে। 


আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যার কারণেও কবজি ব্যথা হতে পারে। সাধারণত কবজিতে  অস্টিও আর্থ্রাইটিস খুব কম হয়। কোনো লোকের কবজিতে আগে ইনজুরি হয়ে থাকলে পরে অস্টিও আর্থ্রাইটিস হয়। এ ক্ষেত্রে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ছিঁড়ে যায় বা ক্ষয় হয়।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাত ও কবজির যে কোনো কাজ বারবার করলে কবজির ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। আর বোলিং, গলফ, জিমন্যাস্টিক, টেনিস প্রভৃতি খেলার ফলেও ব্যথা হতে পারে।


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং নং ২, নং৩, নং ৪, নং ৫ এবং নং ৬ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।


তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন-এ বিশ্রাম করবেন। 


তারপর ময়ূরাসন, গোমুখাসন, দণ্ডায়মান জানুশিরাসন, উত্থিত পদ্মাসন এবং পদহস্তাসন অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে রোজকার ব্যায়াম শেষ করুন।


অন্যান্য উপকারিতা


পাকস্থলী, যকৃত, প্লীহা এবং এড্রিনাল গ্রন্থিগুলিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।


বাত, পিত্ত ও কফ্ জনিত ত্রিদোষ দূরীভূত হওয়ায় পরিপাকশক্তি এত বৃদ্ধি পায়। তাই খাদ্যবস্তু সহজে হজম হয়।


কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত পেশী অধিক পুষ্ট ও দৃঢ় হয়।


পায়ের বাত, সায়টিকা বাত, অর্শ, মূত্রপ্রদাহ ও নিদ্রাহীনতা (ইন্‌সম্‌নিয়া) দুর করে এবং কামেচ্ছা দমন করে কামরিপুকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে। 


হাঁটুর সন্ধিস্থলের উপরের পেশী ও মেরুদণ্ড অধিকতর নমনীয় হয়। ফলে হাঁটুতে ও কোমরে বাত হতে পারে না।


মেরুদণ্ডের, হাত ও পায়ের পেশীগুলো নমনীয় হওয়ার দরুন কোমর থেকে দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের স্বাভাবিক সমতা বজায় রাখা সহজ হয়।


পেটের মেদ কমায়, ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, পেট হাত ও কাঁধের মাংসপেশীকে সবল ও অধিক কর্মক্ষম করে।


কাঁধের পেশীর অসমতা থাকলে এই আসনে তাও দুর হয়।


পাকস্থলী, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় ও প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি পুষ্ট হওয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি দুর হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।


মাংসপেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।



সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।